চমক-৫০ হাজার কোটি টাকার মাইলফলক স্পর্শ করেছে- চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস রাজস্ব আয়ে

  •  
  •  
  •  
  •  

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সবচেয়ে বড় শুল্ক স্টেশন চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস । ২০২০-২১ অর্থবছরের ৩ দিন বাকি থাকতেই ছাড়িয়ে গেছে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ। ২৬ বছরের মধ্যে এটিই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনের বছর।
অর্থবছরে ৫৮ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি বছর শেষে আয় করে ৪১ককড় হাজার ৮৫৩ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৮ দশমিক ২১ শতাংশ কম হওয়ায় প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়ায় তিন দশমিক ৯৬ শতাংশ ঋণাত্মক। তবে ২০২০-২১ অর্থবছরে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ রাজস্ব আয় বা প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস।

রাজস্ব আয়ে এককভাবে শীর্ষে থাকা চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে। চলতি অর্থবছরে দেশের সর্ববৃহৎ শুল্ক স্টেশন চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৪ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা, যা ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে ছয় হাজার কোটি টাকা বেশি। তবে অন্য বছরের মতো আদায়ের লক্ষ্যমাত্রায় পিছিয়ে থাকলেও বিগত বছরগুলোর তুলনায় সাফল্য লাভ করেছে রাষ্ট্রয়াত্ত প্রতিষ্ঠানটি।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস ২০২০-২১ অর্থবছরের ২৭ জুনের মধ্যে গত এক যুগের সর্বোচ্চ রেকর্ড ভেঙে ৫০ হাজার কোটি টাকার মাইলফলক স্পর্শ করেছে, যা প্রবৃদ্ধির হার হিসেবে ২২ শতাংশের বেশি অর্জন হয়েছে।

এদিকে ১৯৯৫-৯৬ অর্থবছর থেকে ২০২০-২১ অর্থবছর পর্যন্ত অর্থাৎ ২৬ বছরের মধ্যে এটিই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনের বছর। শুধু ২০০৭-০৮ অর্থবছরে এ অর্থবছরের থেকে বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছিল চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস। সেই অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৩০ দশমিক ৪৬ শতাংশ এবং আদায়ের পরিমাণ ছিল ১৩ হাজার ৯৪২ কোটি টাকা, যার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৩ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। তবে লক্ষ্যমাত্রা থেকে মাত্র চার দশমিক শূন্য চার শতাংশ কম আদায় হলেও আগের বছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধির হার বেশি ছিল।
এছাড়া গত ২৬ বছরের প্রবৃদ্ধির হারের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এ সময়ের মধ্যে ১৩ অর্থবছরই চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস প্রবৃদ্ধির হার সিঙ্গেল ডিজিট থেকে বের হতে পারেনি। এর মধ্যে আবার পাঁচ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ঋণাত্মক। বিশেষ করে ১৯৯৯-০০, ২০০৫-০৬, ২০০৬-০৭, ২০১৩-১৪ ও ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার ঋণাত্মক থাকায় ব্যাপক রাজস্ব হারিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস। তবে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হলেও গত এক দশকে মোটামুটি ভালো রাজস্ব আয় করেছে। বিশেষ করে ২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে চলতি অর্থবছর পর্যন্ত ছয় অর্থবছরে দুই অঙ্কের ঘরে প্রবৃদ্ধির হার ধরে রেখেছিল কাস্টম। বাকি চার অর্থবছর অর্থাৎ ২০১২-১৩, ২০১৩-১৪, ২০১৮-১৯ ও ২০১৯-২০ অর্থবছরে ভালো রাজস্ব আয় করতে পারেনি। কারণ এই অর্থবছরগুলোয় দুটি জাতীয় নির্বাচন এবং ২০১৯-২০ অর্থবছরের শেষ দিকে কভিড-১৯ অতিমারির ফলে রাজস্ব হারিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস।

এদিকে অর্থবছরের সর্বশেষ জুনের রাজস্ব আদায়ের হিসাবে দেখা যায়, এ মাসে আজস্ব আদায়ে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল চার হাজার ৩৫৮ কোটি টাকা। আর জুনের ২৭ তারিখ পর্যন্ত আদায় হয়েছে ছয় হাজার পাঁচ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রা থেকে এক হাজার ৬৯২ কোটি টাকা বেশি, অর্থাৎ ২৭ তারিখ পর্যন্ত প্রবৃদ্ধির হার ৩৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। এছাড়া ২৭ জুন এক দিনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২২৮ কোটি ১১ লাখ টাকা। কিন্তু বিপরীতে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস আদায় করেছে ৯৯৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রা থেকে বেশি ৭৭১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা, যা প্রবৃদ্ধির হার ৩৩৮ দশমিক ৩২ শতাংশ। যাদিও ২০১৯-২০ অর্থবছরের একই দিন চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস রাজস্ব আয় করেছিল মাত্র ২১ কোটি টাকা।
চট্টগ্রাম কাস্টমস কমিশনার মোহাম্মদ ফখরুল আলম আমার সময়কে বলেন, করোনা মহামারির কঠিন সময়ে যখন সব কিছু স্থবির ছিল, সেই চ্যালেঞ্জের মধ্যে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধির বদলে আমরা বাড়তি রাজস্ব প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছি। সুশাসন নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছি । অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে আমরা এক যুগের সর্বোচ্চ রেকর্ড ভেঙে ৫০ হাজার কোটি টাকার মাইলফলক অর্জন করতে সক্ষম হ্যেছি।
২০২০-২১ অর্থবছরে আগের তুলনায় বেশি রাজস্ব আয় করা প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের মুখপাত্র উপ-কমিশনার একেএম সুলতান মাহমুদ অপরাধ অসুসন্ধানকে বলেন, ‘কমিশনার স্যারের দিকনির্দেশনায় সঠিক সিদ্ধান্তের কারণে অতিমারির মধ্যেও চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস দারুণ সাফল্য অর্জন করেছে। জুনের ২৭ তারিখের মধ্যে ৫০ হাজার কোটি টাকার বেশি আয় করেছে। আগামী তিন দিনে আরও কয়েকশ কোটি টাকা রাজস্ব আয় হবে। তবে রাজস্ব ফাঁকির সব চালান আটক করতে পারলে এ সংখ্যাটা আরও বড় হতো।


  •  
  •  
  •  
  •