চট্টগ্রাম এর কিছু আঞ্চলিক শব্দের ব্যবহার জেনে নিন-লেখক- সাংবাদিক মোহাম্মদ হায়দার আলী এম এ

মোহাম্মদ হায়দার আলী,নির্বাহী সম্পাদক:-বাংলাদেশ এর রাষ্ট্রীয় ও মাতৃভাষা বাংলা ভাষা। দেশের ৬৪ জেলার মানুষ মাতৃভাষা বাংলার চলিত ও সাধু রীতিতে কথা বলে থাকে। বাংলাদেশের প্রায় মানুষ প্রমিত ভাষায় কথা বলার পাশাপাশি জেলা,উপজেলা ও তৎসংলগ্ন স্হানীয় আঞ্চলিক শব্দ ব্যবহার করে ও মনের ভাব প্রকাশ করে থাকে। তবে এই আঞ্চলিক শব্দ গুলু কখনও কখনও বাংলা ভাষার চলিত ও সাধু রীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন নিয়ে আসে। আবার অনেক সময় শব্দের রুপ,অর্থ ও পরিবর্তন করে ফেলে আঞ্চলিক শব্দের ব্যবহারে। বিশেষ করে তা পরিলক্ষিত হয়, সিলেট, নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম এর আঞ্চলিক ভাষার শব্দের ব্যবহারে।

পাঠক মহলের জ্ঞাতার্থে নিচে চট্টগ্রাম জেলার নগরীর বাসিন্দা সহ উপজেলাগুলুতে ব্যবহ্রত তাদের আঞ্চলিক শব্দ ভান্ডার হতে নিচে কিছু বহুল প্রচলিত শব্দ প্রকাশ হল,যেমন, চট্টগ্রামে মুরগী কে  তাদের আঞ্চলিক ভাষায় বলা হয় “কুরো”।মোরগ কে বলে ” লাতা কুরো”..
শালিক পাকি কে বলে “দেচ্ছো”।তেলাপোকা কে বলে “তেইল্লেচুরা”। কাক কে ” হাউওয়ো”। টয়লেট কে “টাট্টি”
খারাপ মানুষ কে ” জারগো” মাউলানা কে ” মুলিছাফ”
পেয়ারা কে “গুয়াছি”। শিমের বিচি কে “হাইস্যে” সমুদ্র কে “দইজ্জে”।কলসি কে “ঠিল্লে”।হঠাৎ কে “আতিক্কে”
পিচ্ছিল কে “বিরবিজ্জে” বলে থাকে।এমনই আরও বহু শব্দ তাদের আঞ্চলিক ভাষায় পাওয়া যায়।

টিক তেমনিভাবে চট্টগ্রামের শহরের মানুষের কিছু ডায়ালগ আছে যা তাদের আঞ্চলিক শব্দে ব্যবহার করে থাকে।নিচে পাঠকের উদ্দেশ্যে তা প্রকাশ করা হল।
যেমন : তারা আচার্য ও রাগ প্রকাশ করে বলে থাকে, “অবাইজ্জেহুদা”! আর কোন কিছুতে ক্ষতি হলে বা দশজনের দায়িত্ব একজনের কাঁদে নিয়ে বলে থাকে
“আত্তামারেবাপ”! আর কোন কাজের ফলাফল ভাল না হলে অথবা কাজ সমাপ্ত না হলে, রাগ করে বলে থাকে
“মাইল্লেপিরে”! আর বড় কোন ক্লতি হলে বা বিপদের খবর পেলে বলে থাকে “অবাজিরে চাওয়ো” আর মায়ার শুরে শাসন করতে বলে থাকে “উম্মারেম্মা”।
এরকম আরও বহু আঞ্চলিক ডায়ালগ এর ব্যবহার আছে চট্টগ্রামে।

একইভাবে চটগ্রামের কিছু প্রসিদ্ধ আঞ্চলিক
প্রবাদ বাক্য আছে।যার অর্থ বুজা কোন ভাষাজ্ঞানীর ও সম্ভব নয়। চট্টগ্রামে না গেলে অথবা চট্টগ্রাম এর কোন বাসিন্দা তার মর্মার্থ বলে না দিলে আপনার বুজার কেন সুযোগ নেই। যেমন চট্টগ্রামে বলা হয়ে থাকে, “ফুয়াদেল্লাই ছাড়িত ন পারির, কেঁডারলাই গিলিত ন পারির”-বাংলা অনুবাদ : স্বাদের জন্য ছাড়তে পারছি না, আবার কাঁটার জন্য গিলতে পারছি না। আবার তারা বলে থাকে, “পুঁদত নাই তেনা, মিডে দি ভাত হানা”
অনুবাদ : গায়ে নেই জামা মিঠায় দিয়ে ভাত খাওয়া।
তারা আরও বলে থাকে,”চেরেত গরি পরি গেইয়ে”
অনুবাদ-আকষ্মিকভাবে ভাবে পড়ে গেছে।

চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় খেলা ও খেলার ডায়ালগ,
যা কখনও কোন ভাষায় অনুবাদ করা সম্ভব নয়।যেমন,
১) “ইচকিম ইচকিম হাইমর দাঁরা,হাইম গেইয়ে রাজার বারা রাজার বউয়ের বাইট্টে চুল,টাইনতে টাইনতে লাম্বা চুল। লাম্বা চুলেত্তলে দুওয়ো বাত্তি জ্বলেসোনার আত হাডি দিলাম কেঁচেঁত”। ২) “হা ডু ডু লক্কন,তুরে মাইত্তে হতক্কন”। ৩) “তুব্বোইন শরত টিব্বাত্তি বরত”।আমিও জানি না এটার অর্থ কি! চট্টগ্রাম এর বহু আঞ্চলিক বাক্য ও শব্দের অর্থ ও ব্যবহার বর্তমান যুগের চট্টগ্রাম এর ছেলে-মেয়েরাও জানে না। এরপরও চিটাংগে মরতপুয়া/মাইয়েপুয়া বলে থাকেন, “দরহার অইলে এই ভাষারে বাচাই বাল্লাই আঁরা আবার ভাষা আন্দোলন গইজ্জুম”। তাদের একটাই কথা” চিটাইংগে অক্কল আরাই সেরা। তবে ভাষাবিদ প্রমথ চৌধুরী বলে ছিলেন, “বাংলা ভাষা আহত হয়েছে সিলেটে, নিহত হয়েছে চট্টগ্রামে”।