ইপিজেড থানা পুলিশের অভিযানে ১ কোটি ২৩ লক্ষ ৫৪ হাজার টাকার চোরাই মাল উদ্ধারসহ গ্রেপ্তার – ১০

মোঃখলিলুর রহমান,বিশেষ প্রতিনিধি:-
চট্রগ্রাম মহানগরীর ইপিজেড থানা পুলিশ কর্তৃক তিনটি কাভার্ড ভ্যান গাড়ি হইতে চুরি যাওয়া ৪৬৫৭ পিচ শার্ট, ১৫২০ পিচ শর্ট প্যান্ট উদ্ধার এবং চোরাইকারবারী দলের ১০ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার:
তারিখ-২২ ফেব্রুয়ারী ২০২০ খ্রিঃ।
ইপিজেড থানা এলাকায় দীর্ঘদিন যাবৎ ঢাকা হইতে চট্টগ্রাম পরিবহণের সময় গাড়িতে থাকা বিদেশে রপ্তানীযোগ্য গার্মেন্টসের তৈরী পোষাক চুরি ও আত্মসাৎকারী সক্রিয় সদস্যদের হাতেনাতে ধৃত করার জন্য ইপিজেড থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব মীর মোঃ নূরুল হুদা এবং পুলিশ পরিদর্শক(তদন্ত) জনাব, মুহাম্মদ ওসমান গনি মহোদয়ের সার্বিক দিক নির্দেশনায় ইপিজেড থানার চৌকশ টিম দীর্ঘদিন যাবৎ তৎপর রহিয়াছে। তারই ধারাবাহিকতায় ইপিজেড থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব মীর মোঃ নূরুল হুদা এবং পুলিশ পরিদর্শক(তদন্ত) জনাব, মুহাম্মদ ওসমান গনি মহোদয়ের তত্ত্বাবধানে থাকা ইপিজেড থানার চৌকশ টিমের অফিসার এসআই(নিঃ) টিটু নাথ সঙ্গীয় অফিসার এএসআই(নিঃ) মোঃ হান্নান হোসেন, এএসআই(নিঃ) মোঃ আজিজুল হক, এএসআই(নিঃ) মোঃ হান্নান উদ্দিন, কং/২২৫৫ রনজিত বড়–য়া, কং/৫৪১০ সুকদেব পাল গণ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ইপিজেড থানাধীন সিইপিজেডস্থ সিইপিজেড পুলিশ ফাঁড়ির সামনে একটি কাভার্ড ভ্যান গাড়ি যাহার রেজিঃ নং-ঢাকা- মেট্টো-ট-২০-১২১৬ এর পেছনের দরজা খুলিয়া রপ্তানীযোগ্য গার্মেন্টস মালামাল চুরি করার সময় গাড়ির ড্রাইভার ১নং আসামী মোঃ সুমন (৩১), পিতা-মোঃ শওকত আলী প্রধান, মাতা-মোসাঃ লুৎফা বেগম, সাং-দশপাড়া, থানা-মতলব দক্ষিণ, জেলা-চাঁদপুর, বর্তমানে-চৌধুরী পাড়া, মরিয়ম ভবন (৫ম তলা), থানা-বন্দর, জেলা-চট্টগ্রাম এবং ২নং আসামী হেলপার মোঃ ইউসুফ (৩৫), পিতা-মৃত আব্দুল হাকিম বেপারী, মাতা-মৃত আরশী বেগম, সাং-দেবপুর, থানা-চাঁদপুর সদর, জেলা-চাঁদপুর, বর্তমানে-চৌধুরী পাড়া, মরিয়ম ভবন (৫ম তলা), থানা-বন্দর, জেলা-চট্টগ্রামদ্বয়কে উক্ত গাড়ি সহ আটক করেন। তাহাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে তাহারা জানায় যে, গত ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২০ ইং তারিখ পার্ল গার্মেন্টস কোম্পানী লিমিটেড পলাশ বাড়ি, নবীনগর, সাভার, ঢাকা হইতে গাড়ি যোগে ৪০৩ কার্টুনে ৯৮০১ পিচ শার্ট চট্টগ্রাম সিইপিজেডস্থ কিউএনএস কন্টেইনার ডিপোর উদ্দেশ্যে ঢাকা হইতে চট্টগ্রাম আসার পথিমধ্যেই ডিএমপিস্থ ডেমরা থানাধীন পাড়াডগার এলাকায় অপরাপর আসামীদের সহযোগীতায় গাড়িতে থাকা অনেক মালামাল চুরি করিয়া রেখে দেয়। বিষয়টি থানা পুলিশ কিউএনএস কন্টেইনার ডিপোর কর্তৃপক্ষকে অবহিত করিলে তাহারা জানায় যে, তাহাদের আরো দুইটি কাভার্ড ভ্যান গাড়ি ঢাকা হইতে তাহাদের ডিপোতে আসিয়াছে। উক্ত দুইটি গাড়িতে থাকা মালামাল (তৈরী পোশাক) ইনভেন্টর করিয়া মালামাল কম পাওয়া যায়। তখন পুলিশের নিকট আটককৃত গাড়িও কিউএনএস কন্টেইনার ডিপোতে নিয়ে গিয়ে ইনভেন্টর করিয়া ইহাতেও মালামাল কম পাওয়া যায়। পরবর্তীতে অপর দুইটি কাভার্ড ভ্যান গাড়ির ধৃত ড্রাইভার ৩নং আসামী মোঃ তাজুল ইসলাম হাসান (২২), পিতা-মোঃ নজরুল ইসলাম, মাতা-ফাতেমা বেগম, সাং-নয়ামাটি, থানা-বন্দর, জেলা-নারায়নগঞ্জ, ৪নং আসামী হেলপার মোঃ রুবেল হোসেন (২০), পিতা-মৃত মোঃ সুলতান হোসেন, মাতা-শিরিন আক্তার, সাং-তালিকাপুর, থানা-সোনাইমুুড়ি, জেলা-নোয়াখালী, ৫নং আসামী  হেলপার মোঃ সুমন (১৯), পিতা-মোঃ হোসেন, মাতা-ফাতেমা বেগম, সাং-চাঁনখালী, থানা-লক্ষীপুর সদর, জেলা-লক্ষীপুর, বর্তমানে-বড়পুল, কাজীর গলি, আনু কোম্পানীর বাড়ি, থানা-হালিশহর, জেলা-সিএমপি, চট্টগ্রাম এবং গাড়ীতে থাকা অপর ৬নং আসামী মোঃ বোরহান (২৬), পিতা-আহম্মদুল হক, মাতা-তৈয়বা বেগম, সাং-ইলশা, হায়দার আলী মুন্সি বাড়ি, থানা-বাঁশখালী, জেলা-চট্টগ্রাম, বর্তমানে-ফিরোজশাহ, মিনারের পাশে, জসিমের কলোনী, থানা-আকবরশাহ জেলা-সিএমপি, চট্টগ্রামদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে তাহারাও জানায় যে, পার্ল গার্মেন্টস কোম্পানী লিমিটেড পলাশ বাড়ি, নবীনগর, সাভার, ঢাকা এবং কসমোপলিটন ইন্ডাষ্ট্রিস প্রাইভেট লিমিটেড, খেজুর বাগান, বার আউলিয়া, সাভার, ঢাকা হইতে গাড়ি যোগে ৩৯৮ কার্টুনে ৯৬৩৭ পিচ শার্ট এবং ৫৮৮ কার্টুনে ১০০৩২ পিচ শর্ট প্যান্ট চট্টগ্রাম সিইপিজেডস্থ কিউএনএস কন্টেইনার ডিপোর উদ্দেশ্যে ঢাকা হইতে গাড়ি যোগে চট্টগ্রাম আসার পথিমধ্যেই গজারিয়া থানাধীন বসুন্ধরা টিস্যু কোম্পানী সংলগ্ন পেট্টোল পাম্পের পাশে খালি মাঠে এবং রুপগঞ্জ থানাধীন বড়পা বাসষ্ট্যান্ডের পাশে খালি জায়গায় অপরাপর আসামীদের সহযোগীতায় গাড়িতে থাকা অনেক মালামাল চুরি করিয়া রেখে দেয়।  কিউএনএস কন্টেইনার ডিপো কর্তৃপক্ষ তিনটি কাভার্ড ভ্যান গাড়ির মালামাল ইনভেন্টর করিয়া লিখিতভাবে জানায় যে, তিনটি গাড়িতে সর্বমোট-৪৬৫৭ পিচ শার্ট এবং ১৫২০ পিচ শর্ট প্যান্ট কম পাওয়া গিয়াছে। যাহার মূল্য সর্বমোট-১, কোটি ২৩ লক্ষ,৫৪ হাজার টাকা। পরবর্তীতে ধৃত আসামীদের নিয়ে কিউএনএস কন্টেইনার ডিপো কর্তৃপক্ষের লোকজন সহ চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার ও ঘটনায় জড়িত অপরাপর আসামীদের গ্রেফতারের নিমিত্তে গত ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২০ ইং তারিখ হইতে ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২০ ইং তারিখ পর্যন্ত ঢাকা শহর, ঢাকা জেলা, নারায়নগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করিয়া ৭নং আসামী মোঃ নুরু নবী প্রকাশ সোহাগ (৪০), পিতা-মৃত আব্দুল হাকিম, মাতা-মৃত আয়ফলের নেছা, সাং-নবীপুর, থানা-বরুড়া, জেলা-কুমিল্লা, বর্তমানে-শনির আখড়া, ৬নং রোড, ২৭নং বাড়ী, থানা-কদমতলী, জেলা-ডিএমপি, ঢাকা, ৮নং আসামী মোঃ মাসু দ (৩০), পিতা-মোঃ সালাম, মাতা-মোসাঃ লুতুফা, সাং-বাসাইকান্দি, থানা-বাউফল, জেলা-পটুয়াখালী, বর্তমানে-মাঝপাড়া, মাতুয়াইল, থানা-যাত্রাবাড়ী, জেলা- ডিএমপি, ঢাকা, ৯নং আসামী মোঃ মাহাবুবর রহমান প্রকাশ শাওন (৩২), পিতা-মোঃ রহমত উল্লাহ, মাতা-মৃত মনোয়ারা বেগম, সাং-বাঘাইকান্দি, থানা-মুন্সিগঞ্জ সদর, জেলা-মুন্সিগঞ্জ, বর্তমানে-হযরত শাহজালাল রোড, বাড়ী নং-০৮, লেইন নং-০৬, থানা-ডেমরা, জেলা-ডিএমপি, ঢাকা, ১০নং আসামী মোঃ সাইফুল ইসলাম প্রকাশ রিপন (২৩), পিতা-মোঃ আব্দুল হক, মাতা-মোসাঃ মমতাজ বেগম, সাং-আলীপুর, থানা-কবিরহাট, জেলা-নোয়াখালী, বর্তমানে-মাছের আড়তের দক্ষিণ পাশে রিদম হোটেল, থানা-যাত্রাবাড়ী, জেলা-ডিএমপি, ঢাকাগণদেরকে গ্রেফতার করেন। ধৃত আসামীদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে তাহারা জানায় যে, তাহারা বিভিন্ন জায়গায় রাখা উক্ত মালামালগুলো সংগ্রহ করিয়া ডিএমপিস্থ ডেমরা থানাধীন পাড়াডগার (ধার্মিক পাড়া) হাজী নজরুল ইসলাম এর বাউন্ডারী ওয়াল দেওয়া খালি জায়গা রাখিয়াছে। পরবর্তীতে আসামীদের স্বীকারোক্তি মতে, ডিএমপিস্থ ডেমরা থানাধীন পাড়াডগার (ধার্মিক পাড়া) হাজী নজরুল ইসলাম এর বাউন্ডারী ওয়াল দেওয়া খালি জায়গা হইতে চুরি যাওয়া ৪৬৫৭ পিচ শার্ট এবং ১৫২০ পিচ শর্ট প্যান্ট উদ্ধার পূর্বক জব্দ করেন। এই সংক্রান্তে মোট ১০ (দশ) জন আসামী গ্রেফতারসহ তিনটি কাভার্ড ভ্যান গাড়ি যাহা রেজিঃ নং-ঢাকা মেট্রো-ট-২০-১২১৬, ঢাকা মেট্টো-ট-১৬-৯৭১২ ও চট্ট মেট্টো-ট-১১-৮৯৪৭ জব্দ করা হইয়াছে। আসামীগণ বিভিন্ন জেলা হইতে চট্টগ্রাম এবং চট্টগ্রাম হইতে ঢাকা সহ অন্যান্য জেলা শহরে মালামাল পরিবহণের সময় কাভার্ড ভ্যান ও  মালামাল পরিবহনের অন্যান্য যানবাহন হইতে মালামাল আত্মসাৎ ও চুরি করিয়া থাকে। এই সংক্রান্তে ইপিজেড থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হইয়াছে। মামলা তদন্ত অব্যাহত আছে।